কলা চাষ পদ্ধতি - কলার বিভিন্ন জাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

  

কলা বাংলাদেশের সব জেলায় কমবেশি জন্মে। কিন্তু কখন কিভাবে কলার চাষ করতে হয় তার জন্য কলা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে। কলা চাষ পদ্ধতি এর জন্য বিভিন্ন দিক আলোকপাত করা প্রয়োজন। কলা চাষ সব জেলায় উৎপাদন করা গেলেও সব জায়গায় ভালো ফলন পাওয়া যায় না।

কলা চাষ পদ্ধতি - কলার বিভিন্ন জাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

বাংলাদেশের কিছু জেলা রয়েছে যেসব জেলায় ব্যাপক কলার চাষ হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য জেলা সমূহগুলো হল নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, এসব জেলায় সবচেয়ে ব্যাপক ফলন উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশ প্রায় 40 হাজার হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়ে থাকে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ কলা চাষ পদ্ধতি - কলার বিভিন্ন জাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

  • কলা চাষ পদ্ধতি
  • কলার জাত
  • কলার চারা রোপন পদ্ধতি
  • কলা গাছে সার দেওয়ার নিয়ম

কলা চাষ পদ্ধতি

কলা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ দ্বারা পরিপূর্ণ। আমাদের দেশে কলাকে সবজি হিসেবেও ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও পাঁকা কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন। কলা চাষ পদ্ধতি এর সকল দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। কলা বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই চাষ হয়ে থাকে। কলা কাঁচা অবস্থায় তরকারি এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয়।

কলাপাতা পশু খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে যেমনঃ শর্করা, আমিষ, স্নেহ, লৌহ, ক্যালসিয়াম, চর্বি, ভিটামিন সি ইত্যাদি। কলা চাষ পদ্ধতি এর বিভিন্ন জাত সম্পর্কে জানব।

কলার জাত

বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে যেসব কলার জাত চাষ করা হয় সেগুলো হচ্ছে অমৃতসাগর, সবরি, চাপা, মেহেরসাগর, কবরি ইত্যাদি। এছাড়াও কলার আরো অনেক জাত আছে যেমনঃ জাহাজি কলা, কাঁচকলা, প্রভৃতি। তবে বারি কলা -১, বারি কলা-২ ও বারি কলা-৩ নামে তিনটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

কলার উৎপাদন ও প্রযুক্তিঃ কলার উৎপাদন প্রযুক্তি গুলো হচ্ছে মাটি ও জমি তৈরি, রোপণের সময় চারা রোপণ এবং সার প্রয়োগ পদ্ধতি পরিচর্য ইত্যাদি। কলা চাষ পদ্ধতি এর জন্য অন্যতম উপাদান হচ্ছে মাটি বা জমি তৈরি।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে আপনার Chrome book এ ভাষা পরিবর্তন করবেন

মাটি এবং জমি তৈরি পদ্ধতিঃ উর্বর দোআঁশ মাটিতে কলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এই জমিতে গভীরভাবে চাষ করে ২ মিটার দূরে দূরে ৫০ সেমি X ৫০ সেমি X ৫০ সেমি X আকারের গর্ত করতে হবে। চারা রোপণের প্রায় একমাস আগে গর্ত করে গর্তে গোবর ও টি এস পি এমপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত পূরণ করে দিতে হবে

কলার চারা রোপন পদ্ধতি

প্রতি বছর তিনটি মৌসুমে কলার চাষ করা হয় বা কলার চারা রোপণ করা হয়

১. আশ্বিন-কার্তিক

২. মাঘ-ফাল্গুন

৩. চৈত্র-বৈশাখ

কলা চাষ পদ্ধতি একটি প্রাচীনতম পেশা বা কৃষির কাজ। এবার আসি কলার চারা রোপণ পদ্ধতি নিয়ে, চারা রোপনের জন্য প্রথমত অসি তেউড় বা তলোয়ার তেউড় নির্বাচন করতে হবে। খাটো জাতের ক্ষেত্রে ৩৫-৪৫ এবং লম্বা জাতের ক্ষেত্রে ৫০-৬০ সেমি দৈর্ঘ্যের তেউড় ব্যবহার করা উচিত। এরপরে চারা রোপনের এক মাস আগে যে গর্তে গোবর ও টি এস পি এমপি সার দিয়ে পূর্ণ করা হয়েছিল সেই গর্তে রোপন করতে হবে।চারা রোপণের সময় লক্ষ্য করতে হবে যেন চারার কান্ড মাটির ভিতরে বেশি ঢুকে না যায়।

কলা গাছে সার দেওয়ার নিয়ম

কলা চাষ পদ্ধতি এর জন্য কলার জমিতে সার প্রয়োগ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে কলাগাছে ব্যবহৃত সারির নাম ও গাছের প্রতি সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিচে পর্যায়ে কমে উল্লেখ করা হলো

১. ইউরিয়াঃ প্রতি গাছের প্রতি 500 থেকে 650 গ্রাম পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে

২. টিএসপিঃ 250-400 গ্রাম দিতে হবে

৩. এমওপিঃ ২৫০-৩০০ গ্রাম করে গাছপতি দিতে হবে

৪. গোবর/কম্পোস্ট সারঃ ১০ থেকে ১৫ কেজি কেউ চাইলে এর থেকে বেশিও দিতে পারবে।

পরিচর্যা

কলা চাষ পদ্ধতির জন্য আরেকটি মাধ্যম হলো জমিতে পরিচর্যা করা। কলার জমিতে আদ্রতা না থাকলে শেষের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় নালা কেটে দিতে হবে।কারণ কলা গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারেনা। কলার গাছের গোড়ায় বেশি দিন পানি জমে থাকলে মরে যায়।

অতিরিক্ত চারা কাটা

ফুল বা মোছা আসার পূর্ব পর্যন্ত গাছের গোড়ায় যে তেউড় জন্মাবে তা অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে এবং সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। মজা আসার পর গাছপতি একটির বেশি তেউড় যাবে না। কারণ একটির বেশি তেউড় রাখলে ফলন কম হয়। এবং কলার গুণাগত মান কমে যায়

রোগ ব্যবস্থাপনা

কলা ফল চাষের সময় প্রধানত তিনটি রোগের আক্রমণ দেখা যায় যথা

১. পানামা রোগ

২. সিগাটোগা

৩. গুচ্ছ মাথা রোগ

কলা চাষ পদ্ধতি এর সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে হবে যেন কোন রোগ বালাই আক্রমণ না করে। প্রতিনিয়ত কলা গাছের যত্ন নিতে হবে এতে করে কাঙ্খিত ফলাফল লাভ করা সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ সেরা ১২ টি উইন্ডোজ ১১ সেটিংস পরিবর্তন করুন

১. পানামা রোগঃ এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের আক্রমণে গাছের পাতা হলদে হয়ে যায়। এবং কাণ্ড অনেক সময় ফেটে যায়। আক্রান্ত গাছ ধীরে ধীরে মরে যায় অথবা ফুল-ফল ধরে না। রোগের প্রতিকার হিসেবে রোগ মুক্ত গাছ লাগাতে হবে, রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে দিতে হবে এবং এর জায়গায় অন্য যারা রোপন করতে হবে এছাড়াও টিল্ড-২৫০ ইসি ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় আক্রান্ত গাছে প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যাবে।

২. সিগাটোগাঃ এটি একটি ছত্রাক জনিত রোগ। এ রোগের আক্রমণে পাতার ওপর গোলাকার বা ডিম্বাকৃতির গাঢ় বাদামি রঙের দাগ পড়ে। আক্রমণ ব্যাপক হলে পাতা ঝলসে যায় ও সমস্ত পাতা আগুনে পোড়ার মতো দেখায়। ফলে ফল ছোট এবং ফলন কম হয়। রোগের প্রতিকার হিসেবে আক্রান্ত গাছের পাতা কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং গাছ কেটে ফেলতে হবে।

৩. গুচ্ছ মাথা রোগঃ এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। জাব পোকার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। ম্যালাথিনিয়ন বা অন্য যেকোনো অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগে জাব পোকা দমন করে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

ফসল সংগ্রহ

কলা চাষ পদ্ধতি এর সর্বশেষ কাজ হল ফসল সংগ্রহ, চারা রোপনের পর ১১-১৫ মাসের মধ্যে সব জাতের কলার সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। ধারালো দাবা কাচি দিয়ে কলার ছড়া কাটতে হয়। ভালোভাবে কলার চাষ করলে গাছপতি প্রায় 20 কেজি বা প্রতি হেক্টরে প্রায় ২০-৪০ টন কলা উৎপাদন করা সম্ভব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নিউ বাংলা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url