কালোজিরার উপকারিতা - কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

কালোজিরা প্রাচীন কাল থেকেই ব্যবহার করা হয়। আজকে আমরা কালোজিরার উপকারিতা ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম জানব। আমরা অনেক সময় রান্নার মসলা হিসেবে এবং তরকারি মজাদার করে তুলতে কালোজিরার ব্যবহার করে থাকি। কালোজিরাতে রয়েছে বিশেষ ঔষধি গুণ। কালোজিরা বিভিন্ন রোগের মহা ঔষধ ও বটে। তাই আর দেরি না করে ধৈর্য সহকারে আমাদের আর্টিকেলটির পড়তে থাকুন।

কালোজিরার উপকারিতা - কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

কালোজিরা বিশেষ এক উপাদান যা খাবার ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ বালাই দূর হয় একই সাথে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কালোজিরার তেল ও বেশ কার্যকারী। তাহলে চলুন কালোজিরার উপকারিতা এবং কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিই।

পোস্ট সূচীপত্রঃ কালোজিরার উপকারিতা - কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

কালোজিরার উপকারিতা

আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন তোমরা কালোজিরা ব্যবহার কর কেননা এতে শুধুমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সর্ব রোগের মুক্তি সম্ভব। হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত তিনি বর্ণনা করেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যখন রোগ যন্ত্রণা খুব বেশি কষ্টদায়ক হয় তখন এক তিনটা পরিমাণ কালোজিরা নিয়ে তার সাথে পানি ও মধু পান করতে হবে। তাহলে চলুন কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

সর্দি থেকে নিরাময় করে

যখন কারো সর্দি হয় তখন কেউ যদি কালোজিরা ব্যবহার করে তাহলে সে সর্দি থেকে মুক্তি পাবে। যে সকল ব্যক্তিরা সর্দি-কাশির মতো সমস্যায় ভোগেন তারা প্রতিনিয়ত যদি একটা চামচ কালোজিরা তেলের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে দিনে তিন থেকে চার বার সেবন করে তাহলে খুব সহজেই সর্দি কাশি থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া ও একটা চামচ কালোজিরা তেলের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু ও তুলসী পাতার রস মিশিয়ে সেবন করলেও খুব দ্রুত সর্দি কাশি দূর করা সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ কিসমিসের উপকারিতা - কিসমিস খাওয়ার নিয়ম ২০২৩

চুল পড়া রোধে কালোজিরার ভূমিকা

চুল পড়ার মতো সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে কালোজিরার গুরুত্ব অপরিসীম। কালোজিরা চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগাতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সক্ষম। কেউ যদি প্রতিদিন কালোজিরা তেল ব্যবহার করে তাহলে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব। আর এই জন্য চুলের যত্ন নিতে ও চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে প্রতিনিয়ত কালোজিরার তেল ব্যবহার করা অপরিহার্য।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কালোজিরা

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কালোজিরার ভূমিকা অনেক বেশি কারণ, কালোজিরা ব্যবহারের ফলে মুখের কালো দাগ ব্রণ সারাতে খুবই কার্যকরী উপাদান। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার জন্য কালোজিরার তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সেটা যদি দিনে দুইবার মুখে লাগান তাহলে এটি ব্যবহারের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

হাঁপানি থেকে মুক্তি দেয়

হাঁপানি রোগ মানুষের শরীরে একটি বড় রোগ। হাঁপানি থেকে মুক্তি দিতে কালোজিরা খুবই উপকারী একটি উপাদান। যা বয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম। কেউ যদি হালকা গরম পানির সঙ্গে পরিমাণমতো কালোজিরার গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিনিয়ত সেবন করে তাহলে শ্বাসকষ্টের মতো বড় কঠিন রোগের থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

পিরিয়ডের সমস্যার সমাধান করে

পিরিয়ড হলো মহিলাদের জন্য একটি মাসিক প্রাকৃতিক নিয়ামত। আর তাই পিরিয়ড মহিলাদের জন্য খুবই ভালো কারণ এটির জন্য তারা সন্তান প্রসব করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে আবার অনেকেই রয়েছে যারা অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিকের সমস্যায় ভুগছে। আর এই অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে নিয়মিত কাঁচা হলুদের রস এর সঙ্গে পরিমাণ মতো কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিন থেকে চার বার ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

চর্ম রোগ থেকে মুক্তি দেয়

শরীরে যে স্থানে চর্মরোগ দেখা দেয় সেই স্থানে কালোজিরার তেল মালিশ করলে সহজেই ভালো হয়ে যায়। এছাড়াও হলুদের সঙ্গে পরিমাণমত কালোজিরার তেল এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন তিনবার ব্যবহার করলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কার্যকরী ফল পাওয়া সম্ভব। কিডনির সমস্যা দূর করতে কালোজিরার বিকল্প কোন পদ্ধতি নেই

জ্বর কমায়

যাদের অনিয়মিত অনবরত শরীরের জ্বর লেগেই থাকে তারা যদি সকাল সন্ধ্যা লেবুর রসের সাথে এক চা চামচ কালোজিরা তেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে তাহলে এই জ্বর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

স্নায়বিক উত্তেজনা দূর করে

কফির সাথে কালোজিরা খাওয়ার ফলে শরীরে স্নায়বিক উত্তেজনা দূর করা যায় দূর করা যায়

চোখের ব্যথা দূর করে

রাতে ঘুমাবার আগে চোখের উভয় পাশে ও গুরুতে কালোজিরা তেল মালিশ করলে এবং এক কাপ গাজরের রসের সাথে একমাস কালোজিরা তেল খাওয়ার ফলে চোখের ব্যথা খুব সহজেই দূর করা সম্ভব।

ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে

ডায়াবেটিক দূর করতে কালোজিরা বেশ কার্যকর। আপনারা যদি এক চিমটি পরিমাণ কালিজিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খান তাহলে আপনার শরীরে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এছাড়া এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত খেলে রোগীর ডায়বেটিকস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে।

অনিয়মিত মাসিক দূর করে কালোজিরা

যাদের অনিয়মিত মাসিক হয় তাদের অনিয়মিত মাসিক দূর করতে কালোজিরা বেশ কার্যকরী উপাদান।

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি সহায়ক কালোজিরা

যদি দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হয় তাহলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে থাকে কালোজিরা। এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়। এছাড়া আপনারা চাইলে বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে।

ওজন কমাতে

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সক্ষম কালোজিরা। কালোজিরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ওজন কমাতে কালিজিরার তেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কিডনির সমস্যা দূর করে

যারা কিডনি রোগে ভুগেন তাদের জন্য কালোজিরা খুবই উপকারী একটি উপাদান। কারণ শরীরের বিষাক্ত পদার্থ গুলি দূরে রাখতে সক্ষম কালোজিরা। উষ্ণ পানির সাথে পরিমাণ মতো কালোজিরা গুঁড়ো এবং একটু মধু মিশ্রণ করে যদি প্রতিনিয়ত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায় তাহলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। কিডনিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখে কালোজিরা।

হাঁপানি থেকে মুক্তি দেয়

যাদের শরীরে হাঁপানি রোগ রয়েছে তাদেরহাঁপানি থেকে মুক্তি দিতে কালোজিরা খুবই উপকারী একটি উপাদান। বয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট রোগের সমস্যা বেশি লক্ষ করা যায়। আর তাই এই শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আপনারা যদি হালকা গরম পানির সাথে পরিমাণ মতো কালোজিরার গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিনিয়ত সেবন করেন, তাহলে শ্বাসকষ্টের মতো বড় কঠিন রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ মসুর ডাল দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় - মসুর ডালের উপকারিতা ২০২৩

ইতিপূর্বে আমরা কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনেছি এখন আমরা আপনাদের সামনে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানাবো আপনারা হয়তো অনেকেই কালোজিরা খেতে পছন্দ করেন কিন্তু কখন কিভাবে খেতে হয় সেই সম্পর্কে অবগত নয় আর তাই সঠিক নিয়মে কিভাবে কালোজিরা খাওয়া যায় তার বিস্তারিত জানাবো।আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কালোজিরা খাওয়ার নিয়মগুলো

কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

  • কালোজিরা তরকারির মশলা হিসেবে খাওয়া যায়
  • কালোজিরার তেল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন
  • কাচা কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
  • আপনারা চাইলে রুটি বানানোর সময় কাঁচা রুটির ওপর শুকনো কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে পারেন
  • চাটনি বা আচার তৈরি করার সময় কালোজিরা ব্যবহার করতে পারেন
  • বিস্কুট, কেক, মিষ্টির মতো একাধিক খাবারে কালোজিরা ব্যবহার করা যায়
  • কালোজিরা ভর্তা করেও খাওয়া যায়
  • গরম পানি বা চায়ের সাথে পান করা যায়
  • গরম ভাতের সাথে কালোজিরার ভর্তা খাওয়া খুব উপকারী
  • চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য অন্য তেলের সাথে বা সরাসরি কালোজিরার তেল ব্যবহার করা যায়
  • মিষ্টি, কেক, হালুয়া, ফিরনি, বিস্কুট এসবের সাথে  কালোজিরা দেয়া যায়
  • তিলের তেলের সাথে কালিজিরার পেস্ট বা কালোজিরার তেল একসাথে মিশিয়ে ফোঁড়াতে লাগলে ফোঁড়ার উপশম হয়
  • মধু ও কালোজিরার পেস্ট বানিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়
  • কালোজিরা গুড়ো করে পেয়ারা পাতার রসের সাথে মিক্স করে খাওয়া যায় এলার্জির রোগিদের জন্য কালোজিরা ও পেয়ারা পাতার রস অনেক উপকারি
  • কালোজিরার তেলের সাথে ১ কাপ পরিমান পুদিনা পাতার রস এবং কমলা লেবুর রস মিশিয়ে কালো জিরার মিশ্রন করে খাওয়া যেতে পারে

কালোজিরার অপকারিতা

আমরা জানি যে কালোজিরা হল এক মহা ঔষধ।  কালোজিরার  উপকারিতা ছাড়া অপকারিতা নেই বললেই চলে। কারণ হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঔষধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা  পালন করে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কালোজিরা জীবনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয় তাই অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে  পারে। গর্ভাবস্থায় কালোজিরা সেবন না করায় উত্তম। যাদের কালোজিরাতে এলার্জি রয়েছে তাদের জন্য উচিত অবশ্যই কালোজিরা কম  খাওয়া। কালোজিরার তেল অতিরিক্ত পরিমাণে ত্বকে বা স্কিনে লাগালে এলার্জি হতে পারে। সেই জন্য পরিমাণমতো কালোজিরার তেল ব্যবহার করা উত্তম।

কালোজিরা অতিরিক্ত পরিমাণে সেবন করলে শরীরের রক্ত জমাট বাঁধা কমে যেতে পারে। যার কারণে রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থেকে। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে কালোজিরা খাওয়া থেকে পরিহার করতে হবে।অতিরিক্ত পরিমাণে কালোজিরার খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যেতে পারে। যদি কারো শরীরে ডায়াবেটিস -এর সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই শরীরের শর্করার প্রতিনিয়ত চেকআপ করানো এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার পর কালোজিরা খাওয়া।

সর্বশেষ কথা

উপরোক্ত কালোজিরার উপকারিতা কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম এবং কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সকল তথ্য দেওয়া হল এবং এগুলো পড়ার জন্য আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রতিনিয়ত আমাদের ওয়েবসাইটে নতুন নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে পোস্ট আপলোড করা হয় আর তাই নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নিউ বাংলা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url